Beta

আগুন নিয়ে খেলা হচ্ছে : ফিলিস্তিন

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৩৬ | আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

বিতর্কিত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা ‘আগুন নিয়ে খেলার’ শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ধিক্কার জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

‘জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের চিরন্তন রাজধানী’ হিসেবে উল্লেখ করে মাহমুদ আব্বাস আরো বলেন, ‘বুধবারের এই ঘোষণার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকতে পারে না।’ 

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এমন একটি সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি তেলআবিব থেকে নিজেদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘স্পষ্টতই এটা ইসরায়েলের প্রতি একটি পুরস্কার।’ আর এই স্বীকৃতি যে ফিলিস্তিনের ভূমি ক্রমাগত দখল করতে ইসরায়েলকে উৎসাহিত করবে, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি। 

ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ তিন দিনের বিক্ষোভ ঘোষণা করেছে বলে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা। 

গাজার হামাস নেতা ইসমাইল হার্নিয়া আলজাজিরার কাছে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘উন্মাদনার আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ভাষণের মধ্য দিয়ে জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটল। 

যদিও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ভাষণে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে। দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত, যদি উভয়পক্ষ সেটাই চায়।’ 

ভাষণ দেওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতনিয়াহু, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।

জেরুজালেম পবিত্র ভূমি হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের কাছেই গণ্য। এর দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্বও বহু পুরোনো। 

ইসরায়েল সব সময়ই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে বলে দেশটির নেতারা বলে আসছেন।

তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে বেশ শঙ্কিত সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তুরস্কেরও।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তটি কিন্তু বেশ পুরোনো। ১৯৯৫ সালেই মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত এক আইনে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সাবেক সব প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য স্বাক্ষর করেন। 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একই পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্পও। তবে এবার বেঁকে বসেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস স্থানাস্তর বিলম্বের জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের শেষ দিন। আর এদিন স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে ১৯৮০ সালে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধিগ্রহণ করে নেয় এবং ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলকে দখলকৃত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

Advertisement
0.83153200149536