Beta

অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

০৯ মে ২০১৭, ১৬:৫৩ | আপডেট: ০৯ মে ২০১৭, ১৭:৩৫

অনলাইন ডেস্ক

সারা বিশ্বের মানুষদের কাছে বসবাস ও কাজের জন্য অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই পছন্দের তালিকার শীর্ষের দিকেই থাকে। তাই অস্ট্রেলিয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে কাঙ্ক্ষিত দেশ। কারণও আছে : শান্তি-শৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ, চাকরি, খরচ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসার মানের দিক দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই সেরা।

অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ছয় ধরনের ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশিরা ‘ওয়ার্কিং অ্যান্ড স্কিল ভিসা’য় আবেদন করে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় কাজ ও বসবাস করার সুযোগ পেতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেশনের প্রোগ্রামগুলোকে বেশ কিছু সাব-ক্লাসের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো :

সাবক্লাস ১৮৯ স্কিলড ইনডিপেনডেন্ট ভিসা, সাবক্লাস ১৯০ স্টেট নমিনেটেড ভিসা, সাবক্লাস ৪৮৯ রিজিওনাল স্পনসরড ভিসা ও সাবক্লাস ৪৮৫ টেমপোরারি গ্রাজুয়েট ভিসা। কয়েকটি সাবক্লাসের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত সহজে ভিসা পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাবক্লাস ৪৫৭ এমপ্লয়ার স্পনসরড টেমপোরারি ভিসা, সাবক্লাস ১৮৬ এমপ্লয়ার নমিনেটেড পারমানেন্ট রেসিডেন্স ভিসা, সাবক্লাস ৪০২ ট্রেইনিং অ্যান্ড রিসার্চ ভিসা ও সাবক্লাস ৪৬১ নিউজিল্যান্ড ফ্যামিলি মেম্বার ভিসা।

তবে অস্ট্রেলিয়া স্কিলড মাইগ্রেশন ও সাবক্লাস ৪৫৭ ভিসা প্রোগ্রাম অস্ট্রেলিয়া সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রোগ্রামটি আপাতত বন্ধ আছে। তবে যেকোনো সময় কিছু পরিবর্তনসাপেক্ষে প্রোগ্রামটি নতুন কোনো সাবক্লজের মাধ্যমে ঘোষণা করে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসা

এই ভিসার আওতায় প্রকৌশলী, আইটি বিশেষজ্ঞ, হিসাবরক্ষক, নিরীক্ষক, আর্কিটেক্ট, ডেন্টিস্ট, ফার্মাসিস্ট, থেরাপিস্ট, রেডিওলজিস্ট, নার্স, সনোগ্রাফার, প্যাথলজিস্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, কাঠমিস্ত্রি, রাঁধুনি, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, সার্ভেয়ার ও ফিটার পেশার লোকজন যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন।

এই ভিসা প্রোগ্রামে আবেদন করার জন্য প্রার্থীকে ৫৫ বছরের নিচে থাকতে হবে। এ ছাড়া চার বছরের স্নাতক অথবা সমমানের ডিগ্রি অথবা তিন বছরের স্নাতক ও এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরের যে কোনো ডিগ্রিকে অস্ট্রেলিয়ার সমমানের করার জন্য প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন বছরের (ক্ষেত্রবিশেষে দুই বছর) অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রার্থীদের আইইএলটিএস-এর প্রতিটি মডিউলে আলাদাভাবে ছয়ের বেশি স্কোর থাকতে হবে। তবে কোনো প্রার্থীর সাতের অধিক স্কোর থাকলে আলাদাভাবে ১০ পয়েন্ট পাবেন।

সাবক্লাস ৪৫৭ ভিসা

আগামী মার্চ ২০১৮-এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সাবক্লাস ৪৫৭ ভিসা। শিক্ষার ওপর নির্ভর করে সাবক্লাস ৪৫৭ -এর অধীনে আবেদন ভিসা পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত মেডিকেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইটি রেজিস্ট্রারড নার্স, অ্যাকাউন্টেন্ট, আর্কিটেকট, ইঞ্জিনিয়ার, ফরেস্টার, শিক্ষক, ব্যাংকার, সনোগ্রাফার, ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও মিডওয়াইফ পেশার লোকজন আবেদন করতে পারবেন।

এই ভিসা প্রোগ্রামের সুবিধাগুলো হচ্ছে ভিসার সঙ্গে চাকরি ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া আইইএলটিএস স্কোর কমপক্ষে ৪ দশমিক ৫ থাকলেই আবেদন করা যাবে। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতায় খুব কম সময়ে এই ভিসা পাওয়া যায়। আর একটি সুবিধা হচ্ছে আগে আবেদন করলে আগে ভিসা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

এ ছাড়া রয়েছে আরো কয়েকটি ভিসা প্রোগ্রাম। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে

বিজনেস ট্যালেন্ট (সাবক্লাস ১৩২)

এই ভিসা স্থায়ী। আবেদনের জন্য ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার সমমানের সম্পদের অধিকারী হতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ের তিন মিলিয়ন ডলার লেনদেন ও এক মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ থাকতে হবে।

বিজনেস ইনোভেশন (সাবক্লাস ১৮৮)

চার বছরের জন্য দেওয়া হয় এই ভিসা। এরপর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য বার্ষিক আট লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার সমমানের সম্পদের অধিকারী হতে হবে। এ ছাড়া ভিসা আবেদনের আগে চার বছরের মধ্যে দুই বছরে ব্যবসায় লেনদেন পাঁচ লাখ ডলার থাকতে হবে।

বিজনেস ইনোভেশন স্ট্রিম (সাবক্লাস ৮৮৮)

এই ভিসা স্থায়ী। আবেদনের জন্য ১২ মাস আগে দুই লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যবসায়িক অথবা ছয় লাখ ডলার ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পদের অধিকারী হতে হবে। এ ছাড়া ভিসা আবেদনের আগে ১২ মাসে ব্যবসায় লেনদেন তিন লাখ ডলার হতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে যে কয়েকজন ইমিগ্রেশন আইনজীবী অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মাইগ্রেশন নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের মধ্যে একবারেই শীর্ষে অবস্থান করছেন বিশিষ্ট কলামলেখক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু।

ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্ট লিমিটেডের কর্ণধার ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এমনকি শ্রীলঙ্কা থেকেও প্রতিবছর বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রচুর লোকজন মাইগ্রেশন হচ্ছে। প্রতিবছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রচুর গ্র্যাজুয়েট বের হয় কিন্তু শুধু আইইএলটিএস পরীক্ষাভীতির কারণে বাংলাদেশিরা আরো বেশি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া যেতে পারছে না।’ তিনি তরুণদের প্রতি বিশেষ করে যারা উন্নত দেশে বসবাস করতে আগ্রহী, তাদের প্রতি আহ্বান জানান যে, ‘নিজের যোগ্যতার প্রতি সুবিচার করুন এবং আস্থা রাখুন। সঠিক সময়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে অস্ট্রেলিয়া খুব দূরের স্বপ্ন নয়।’

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বিষয়ে আরো তথ্য জানতে আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী, ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো যাবে info@worldwidemigration.org মেইল ঠিকানায়। এ ছাড়া যোগাযোগ করা যেতে পারে  হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ভাইবারে +৬০১৪৩৩০০৬৩৯ নম্বরে। এ ছাড়া ভিজিট করা যাবে  www.wwbmc.com ওয়েবসাইটে।

ঢাকার উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরের ৫১ সোনারগাঁও জনপথে খান টাওয়ারে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন লিমিটেডের অফিসেও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। প্রাথমিক তথ্যের জন্য ফোন করা যেতে পারে ০১৯৬৬০৪১৫৫৫, ০১৯৯৩৮৪৩৩৪০, ০১৯৯৩৮৪৩৩৪০, ০১৯৬৬০৪১৩৩৩ নম্বরে। 

Advertisement
0.82677698135376