Beta

বিবিসির সাংবাদিকের অনুসন্ধান

সোনু নিগামের বাড়ি থেকে আজান শোনা যায় না

২০ এপ্রিল ২০১৭, ২২:২৮ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৭, ২৩:০৫

বিবিসি হিন্দি

লাউড স্পিকারে আজানের শব্দ নিয়ে মন্তব্য করে এরই মধ্যে বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সোনু নিগাম।

গত সোমবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে আজান নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন সোনু। এরপর তাঁর মাথা ন্যাড়া করতে পারলে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মৌলভী সাইদ শাহ আতেফ আলী আল কাদেরি। অবশ্য এর প্রতিবাদে সোনু নিগাম নিজেই তাঁর মাথা কামিয়ে ফেলেন।

মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠ আন্ধেরির ভারসোভা এলাকায় সোনুর বাড়ি। সেখান থেকে আজানের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায় বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিবিসি হিন্দি সংস্করণের সাংবাদিক সুপ্রিয়া সোগালে ঘটনাস্থলে যান। বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ থেকে আজানের শব্দ সোনুর বাড়িতে পৌঁছায় কি না- সেটাই যাচাই করেন তিনি।

বিবিসিতে সুপ্রিয়া লিখেন, বুধবার ভারতীয় সময় ভোর ৫টায় আমি সোনু নিগামের বাড়িতে যাই। সে সময় অবশ্যই চারপাশে ঘুটঘটে অন্ধকার। স্বাভাবিকভাবেই ব্যস্ত সড়কগুলো তখন ফাঁকা।

সুপ্রিয়া বলেন, ‘সোনুর বাড়ির লাইট বন্ধ ছিল। বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি মোতায়েন। দুজন পুলিশ সদস্য পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমার মতো আরো অনেক সাংবাদিক আজানের শব্দ শোনার জন্য সেখানে যান। কিন্তু কেউই তা শুনতে পেলেন না।’ তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে সব সাংবাদিক চলে গেলেন। আমি আরো আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম। সোনু নিগামের বাড়ির সামনেই আমি বসলাম এবং আজানের অপেক্ষা করলাম। কিন্তু আমার কানে কেবল কিছু গাড়ির শব্দ এলো।’

বিবিসি হিন্দির অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই এলাকায় তিন মসজিদ রয়েছে। সব মসজিদই সোনু নিগামের বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে।

মাদ্রাসা তালিমুল কোরআন ট্রাস্ট মসজিদ প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। সেখানে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আজান হয়েছে। মসজিদের ট্রাস্টি মেহবুব খান বিবিসিকে বলেন, ‘সোনু নিগাম এখানে এসেছেন কয়েক বছর হয়েছে। আমরা এখানে আছি ৩০ থেকে ৩৫ বছর। আজানের শব্দ এত দূরে যায় না।’

সোনু নিগামের বাড়ির ডান পাশে আরো দুটি মসজিদ—মাদ্রাসাতুল-সালাই ও মাদ্রাসা-ই-নব্যিয়াহ। প্রথম মসজিদের কর্মচারী হাবিব বলেন, তাঁরা লাউডস্পিকার বাজান না।

দ্বিতীয় মসজিদের ট্রাস্টি গোলাম বলেন, এখানে ভোর ৫টায় আজান দেওয়া হয়েছে।

ভারসোভায় সোনুর প্রতিবেশী ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্টি’ ও ‘দিল তো বাচ্চা হে জি’ সিনেমার অভিনেত্রী শ্রদ্ধা দাস। গতকাল ফেসবুকে তিনি বলেন, ‘আজানের কারণে আমি শব্দ দূষণের সমস্যায় পড়িনি।’ তিনি বলেন, ‘আমি তার পাশেই থাকি, কিন্তু আমার স্থান থেকে আমি কখনোই সকালে আজান শুনিনি।’

Advertisement
Advertisement