Beta

লক্ষ্মীচরণ সাহার জমিদার বাড়িতে একদিন

১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:০৮ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:১৫

সুমন গোস্বামী

পরিবার বন্ধুবান্ধবসহ ঘুরে আসতে পারেন চট্টগ্রামের শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলা উত্তর ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় শ্রী লক্ষ্মীচরণ সাহার ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি থেকে । চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন প্রাচীন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে।এই জমিদারবাড়িগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্যশৈলী আপনার কাছে হতে পারে এক অন্যতম দর্শনীয় স্থান। তো আর দেরি কেন? চলুন না ঘুরে আসি লক্ষ্মীচরণ সাহার জমিদার বাড়িতে থেকে।

যেভাবে যাবেন

নন্দীরহাট হতে পশ্চিম দিকে পিচ ঢালা সড়ক ধরে ১০ মিনিট পথ। হেঁটে বা সিএনজিতে গেলেই রাস্তা ডানপাশে চোখে পড়বে দুই গম্বুজ বিশিষ্ট চমৎকার কারুকাজ করা দৃষ্টিনন্দন দোতলা জমিদার বাড়িটি। যা সত্য সাহা বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়িটি চার দিকেই ফসলি জমি সবুজের সমরোহ,বড় বড় তিনটি পুকুরঘাট বাঁধানো আর একটু দূরে বিট্রিশ আমলে তৈরি করা রেল জংশন আর রেল লাইনসহ পুরো এলাকাটি আশপাশ ধানের ক্ষেত যে কারো নজর পড়বে। সঙ্গে সঙ্গে মুগ্ধ করবে আপনাকেও।

লক্ষ্মীচরণ সাহার জমিদার বাড়ি

চট্টগ্রামের শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলা উত্তর ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকা শ্রী লক্ষ্মীচরণ সাহার ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি।

জমিদার বাড়িটি বর্তমান দেখাশোনা করে জমিদার বাড়ি বংশধর সাবেক কাস্টম অফিসার ননী গোপাল সাহা ও  রাঙামাটি সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক স্বপন কুমার সাহা। দুজনে জানান এই বাড়ির ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা।

১৮৯০ সালের দিকে এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি  জমিদার পরিবারে বিও বৈভর প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা হয়। জমিদার শ্রী লক্ষ্মীচরণ সাহার বাড়িটি তৈরি করেছেন।

১৯২০ সালের জমিদার লক্ষ্মীচরণ সাহা,মাদল সাহা ও নিশিকান্ত সাহা এই তিন ভাই মিলে জমিদারী সূচনা করে গেছে। তাদের সন্তানের সংখ্যার মোট বার জন ছিলো।

১৯৫০ সালের  জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। জমিদার লক্ষ্মীচরণ সাহার বড় ছেলে প্রসন্ন সাহার হাতেই জমিদারি সমাপ্ত হয়।

যা দেখবেন এই বাড়িতে

প্রায় পাঁচ একর জায়গারজুড়ে  দোতলা এই জমিদার বাড়িটি। জমিদার বাড়িটি বাইরের অংশ অবিকল আগের মতো রয়েছে। বাড়িটিতে নানা কারুকাজ করা দেয়াল ও কার্নিশগুলোতে চমৎকার সুনিপুণ দৃষ্টিনন্দন করা কাজ। বড় আকৃতির শয়ন কক্ষ, গুদাম ঘর, ধানের গোলা, রান্না ঘর, সেস্তা ঘর, বাড়ির মধ্যখানে কারুকাজ বড় মন্দির, বড় বড় তিনটি পুকুর বাড়ি সমানে আর পিছনে ঘাট বাঁধানো, গোয়াল ঘর, ঘোড়া রাখার ঘরসহ সবকিছু আছে। পুরো বাড়িটির কোথাও কোনো রডের গাঁথুনি নেই, শুধু লাল ইট আর চুনা মাটি দিয়ে তৈরি করা এই বাড়ি। পুরো বাড়ির দুই পাশে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুটি গম্বুজ যা জমিদার বাড়ির গর্বের প্রতীক হয়ে আছে এখনো।

জমিদার বাড়িতে যা ছিল

জমিদার প্রসন্ন সাহার ছিলে দুটি ঘোড়ার গাড়ি। তিনি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আদালত ভবনে যেতেন বলে জানান ননী গোপাল সাহা।আর দুই নেপালি দাওয়ান ছিল যাঁরা সব সময় সঙ্গে থাকতেন। চাকর বাকর ছিল অর্ধশতাধিক, নয় জোড়া হালের গরু আর গোলা ভরা ধান, বাড়ি সামনে আর পিছনে ঘাট বাঁধানো তিনটি বড় পুকুর ভরা ছিল মাছ। আর একবেলায় রান্না হতো প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জনের জন্য। কিন্তু এসব আজ রূপকথার গল্প মনে হবে আপনাদের কাছে- বলেন ননী গোপাল সাহা। এক সময় বিত্ত বৈভবের অভাব না থাকলেও এখন আর কিছু নেই । এখন আমরা নিজেরাই পাঁচ-দশ পরিবার আছি এখনো। 

হাটহাজারী, নাজিরহাট, ধলই, গুমারমর্দন, জোবরা, আলীপুর, ফতেয়াবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকা  জুড়ে ছিল তাদের জমিদারি।এই অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার কৃষক প্রতিবছর রাজ পুণ্যাহ অনুষ্ঠান করত।

যেভাবে যাবেন

চট্টগ্রামে আসার জন্য ঢাকা থেকে বিভিন্ন এসি বা ননএসি বাস আছে। দামপাড়া বাস কাউন্টারে আসতে হবে। দামপাড়া বা জিওসি মোড় থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে তিন নম্বরের কিছু বাস আছে সেইগুলোতে করে নন্দীরহাট নামতে হবে। নন্দীরহাট রাস্তার পাশে জমিদার বাড়ি যাওয়া পথ। বাজারে কোনো লোকজনকে বললেই দেখিয়ে দেবে।

শহর থেকে ভাড়া নিবে ১৫ টাকা। আর চাইলে আপনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন করে যেতে পারবেন। প্রথমে আপনাকে দামপাড়া বাস কাউন্টার থেকে সিএনজি বা বাসে করে ষোলশহর জংশনে যেতে হবে সেখান থেকে ফতেয়াবাদ জংশনে নামতে হবে আর ফতেয়াবাদ জংশন থেকে একটু দূরে জমিদার বাড়িটি। চবি শাটল ট্রেনে কোনো ভাড়া দিতে হবে না। শাটল ট্রেন ষোলশহর থেকে সকাল ৭টা থেকে বিকেল পযর্ন্ত আসা যাওয়া করে। আবার ষোলশহর থেকে নাজিরহাটে যাওয়া ডেমু ট্রেন আছে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট, সাড়ে ১০টার দিকে আপনি ফতেয়াবাদ জংশনে নামতে পারবেন। ডেমু ভাড়া ১০ টাকা নিবে ষোলশহর জংশন থেকে।

নন্দীরহাট এলাকায় শ্রী শ্রী লোকনাথ মন্দির (চট্টগ্রাম কেন্দ্র) রামঠাকুরে মন্দির, রাধাকৃষ্ণ জিউর মন্দিরসহ আরো অনেক মন্দির আছে আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ।

খাওয়া-দাওয়া

মন্দিরগুলো ঘুরে আপনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আপনি দুপুরের খাবার খেতে পারেন। অনেক ভালো মানের হোটেল আছে ওখানে দাম তেমন বেশি না।

খরচাপাতি 

ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সব মিলে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন চাইলে।

Advertisement
0.78248000144958