Beta

বিশ্বসেরা ১০ মুসলিম নারী অ্যাথলেট

২১ মার্চ ২০১৭, ০৬:২৩ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৭, ০৬:৩১

প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম নারীদের পিছিয়ে থাকার গল্প বর্তমান সময়ে এসে কারো অজানা নয়। একটা সময় মুসলিম নারীরা কেবল ঘরের মধ্যে আবদ্ধ ছিলেন। বাইরের জগৎ ছিল তাঁদের কাছে অচেনা-অজানা। তারপর দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম নারীরা ঘরের বাইরে বের হতে আরম্ভ করলেন। বুঝতে পারলেন ঘরের চার দেয়ালের বাইরে আরো এক জগৎ রয়েছে, যেখানে নিজেকে মেলে ধরার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। 

বর্তমান সময়ে এসে এমন অনেক মুসলিম নারী আছেন যাঁরা খেলাধুলায় নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। একটা সময় যারা ধারণা করত যে মুসলিম নারীরা কেবল ঘরে বন্দি থাকার জন্য জন্মেছে; তাদের ধারণাকে চোখে আঙুল দিয়ে বদলে দিয়েছেন এই নারীরা। 

পৃথিবীর এমন দশজন সেরা মুসলিম নারী অ্যাথলেটকে নিয়ে এই আয়োজন। 
১০. সারা খোশজামাল ফাকরি (ইরান)

সারা ইরানের প্রথম নারী অ্যাথলেট যিনি অলিম্পিকে তায়কোয়ান্দোতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যান। সারা আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় তিনটি স্বর্ণপদক এবং একটি রৌপ্যপদক জয়লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা থেকে অসংখ্য স্বর্ণপদক অর্জন করেন। 
০৯.  রুবাব রাজা (পাকিস্তান)

রুবাব রাজা প্রথম পাকিস্তানি নারী সাঁতারু, যিনি অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ২০০৪ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে সবচেয়ে কনিষ্ঠ নারী সাঁতারু হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামিক সলিডারিটি প্রতিযোগিতা থেকে একটি স্বর্ণপদক এবং নবম সাউথ এশিয়ান গেমস থেকে দুটি রৌপ্যপদক ও একটি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। 
 ০৮. শেখ মাইথা বিনতে মোহাম্মাদ বিন রশীদ মাকতুম (দুবাই)

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রশীদ মাকতুমের মেয়ে শেখ মাইথা বিনতে মোহাম্মাদ বিন রশীদ মাকতুম একজন মার্শাল আর্ট অ্যাথলেট। তিনি ২০০৬ সালে দোহা এশিয়ান গেমসে ৬০ কেজির বেশি ক্যাটাগরিতে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। সেই সঙ্গে ২০০৮ সালের অলিম্পিকে ৬৭ কেজি ক্যাটাগরিতে তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম নারী, যিনি  অলিম্পিকে প্রথম দুবাইয়ের পতাকা বহন করেন। তিনি ২০০৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘টোয়েন্টি হটেস্ট রয়্যাল’ তালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করেন। 


০৭. শেখ লতিফা বিনতে আহমেদ আল মাখতুম (দুবাই)

তিনি একজন সফল অশ্বারোহী। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ মাকতুমের চাচাতো বোন লতিফা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জন করেছেন একাধিক মেডেল। ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসে তিনি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। সেই সঙ্গে ২০০৮ সালে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন। 
০৬. কিরন খান (পাকিস্তান)

কিরন প্রথম নারী, যিনি পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় সাঁতারে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি প্রথম নজরে আসেন ২০০১ সালে পাকিস্তান ন্যাশনাল গেমস প্রতিযোগিতায়। সেখানে তিনি সাতটি স্বর্ণ, তিনটি রৌপ্য এবং তিনটি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। তিনি পাকিস্তানের হয়ে সাফ গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন। 

০৫.  নাওয়াল ই মোতওয়াকিল (মরোক্কো)

সব মতভেদকে পাশ কাটিয়ে তিনি প্রথম কোনো মুসলিম নারী, যিনি অলিম্পিকে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে তিনি ৪০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় এ পদক অর্জন করেন। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে তিনি মশাল বহন করেন। 
০৪. রোকাইয়া আল গাসরা (বাহরাইন)

রোকাইয়া বাহরাইনের প্রথম নারী অ্যাথলেট, যিনি প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন। অলিম্পিকে হিজাব পরে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। বাহরাইনের হয়ে ২০০৮ অলিম্পিকে পতাকা বহন করেন। ‘আরব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ’ প্রতিযোগিতায় তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ইনডোর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান গেমস থেকে তিনি একটি স্বর্ণপদক, তিনটি রৌপ্যপদক ও একটি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। ২০০৯ সালে রোকাইয়া আন্তর্জাতিক খেলা থেকে অবসর নেন। 

০৩.  রানিয়া এলওয়ানি (মিসর)

বিশ্ব গণমাধ্যমে রানিয়া ‘দ্য গোল্ডেন ফিস’ নামে পরিচিত। দুর্দান্ত সাঁতারু হওয়ায় তাঁকে এই নামেই সম্বোধন করা হয়। তিনি ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল সাঁতারে ১১বার বিশ্বসেরার খেতাব অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে বিবিসি তাঁকে আরবের উদীয়মান তারকা হিসেবে অভিহিত করে। ২০০৪ সালে তিনি সাঁতার থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতে যোগদান করেন। 

০২. হাসিবা বলমেরকা (আলজেরিয়া)

হাসিবা প্রথম আলজেরিয়ান হিসেবে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৮ এবং ১৯৯২ সালের অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় মুসলিম নারী হিসেবে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতেন। ১৯৯৭ সালে হাসিবা অবসরের ঘোষণা দেন। বর্তমানে তিনি আলজেরিয়ার একজন সফল ব্যবসায়ী। 
০১. লায়লা আলী (আমেরিকা)

মুসলিম অ্যাথলেটদের ভেতর লায়লা আলী তালিকায় সবার ওপরে। তিনি কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। লায়লা আলী সাবেক পেশাদার বক্সার ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি বক্সিং খেলা আরম্ভ করেন। ইতিহাসে তিনি সফল একজন নারী বক্সার। তাঁর বিভিন্ন অর্জনের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল, উইমেন্স ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স বক্সিং ফেডারেশন এবং আইডব্লিউবিএফ লাইট খেতাব। লায়লা আলী বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন।

Advertisement
0.81467914581299