Beta

কেন হেরেছিলেন হিটলার?

১৮ মার্চ ২০১৭, ১৭:২০

অ্যাডলফ হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের জন্য দ্রুত কিছু অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছিলেন। সেই হিটলারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই জার্মানির শেষ যুদ্ধে পরাজয় হয়েছিল। হিটলার বাস্তব তো মেনে নিতেনই না, পাশাপাশি জেনারেলদের উপদেশ না শুনে নিজেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতেন অহরহ। এ কারণেই নাজি জার্মানদের হার দ্রুত নিশ্চিত হয়ে যায়। চলুন ওয়ার হিস্টোরি অনলাইনের সৌজন্যে জেনে আসি হিটলারের যুদ্ধে পরাজয়ের ১০টি কারণ।

১০. হিটলারের মিত্ররা ছিল নখদর্পহীন

হিটলার ইংল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায় জার্মানদের রাশিয়া আক্রমণে সহায়তা করার জন্য। কিন্তু ইংল্যান্ড তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে হিটলার খর্বশক্তির দেশ নিয়ে তৎকালীন বিশাল সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে বসেন। ইতালি এমনিতেই হিটলারের প্রথম পছন্দ ছিল, কারণ দুই দেশ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিল। তবে তাদের যুদ্ধ সামগ্রী ছিল বড্ড সেকেলে। রুমানিয়া ও হাঙ্গেরি জার্মানদের সঙ্গে যুক্ত হলেও কেউ হিটলারকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধসামগ্রী সরবরাহ করতে পারেনি।

৯. পিছু না হটার নীতি

১৯৪১-১৯৪২ সালে হিটলার জার্মান বাহিনীকে বাঁচিয়েছিলেন পিছু হটতে বলে, যখন এই বাহিনী মস্কো দখলে ব্যর্থ হয়। তবে এরপর হিটলার গ্রহণ করেন পিছু না হটার নীতি। তাঁর এই নীতির কারণেই তিনি স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে পরজয় বরণ করেন।

৮. সঠিক প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার

তৎকালীন সেরা যুদ্ধ প্রযুক্তি ছিল জার্মানদের কাছেই। সেরা প্রযুক্তির যুদ্ধসামগ্রীর কারণে জার্মানদের সমীহ করতে বাধ্য হতো অন্য রাষ্ট্রগুলো। তাদের বিশালাকার ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানের সঠিক ব্যবহার হলে যেকোনো যুদ্ধেই তারা জয়লাভ করতে পারত। কিন্তু এসব ব্যবহারের পরিবর্তে তারা জোর দিয়েছিল যুদ্ধ কৌশল, সৈন্য ও তাদের ছোট ছোট প্যানথার ট্যাংকের ওপর। 

৭. যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

১৯৪১ সালের ১১ ডিসেম্বর হিটলার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ৭ ডিসেম্বর জাপানের পার্ল হারবারের আক্রমণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হিটলার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ ঘোষণা দেন। এর আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ ছিল। এটি ছিল হিটলারের এক বিশাল ভুল।

৬. কমান্ডার ইন চিফের দায়িত্ব গ্রহণ

ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে হিটলারের মস্কো আক্রমণ কিছুটা স্থগিত হয়ে যায়। সোভিয়েত বাহিনীর জার্মানদের বিরুদ্ধে দারুণ পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে। দখলকৃত জায়গা ছাড়তে আর বা সত্য স্বীকারে হিটলার ছিলেন নারাজ। ফলে হিটলার নিজেকে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি নিজেই যুদ্ধের কৌশল সাজাতেন এবং জেনারেলদের তাঁর কথামত চলতে হতো।   

৫. জেনারেলদের কথা না শোনা

প্রথম দিকে নিজের তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু জয়ের ফলে হিটলার নিজেকে মিলিটারি জিনিয়াস ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু যুদ্ধের দিক যখন পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন হিটলার তাঁদের জেনারেলদের দায়ী করেন। যুদ্ধে হারার কারণ হিসেবে তাঁর জেনারেলরা তার আদেশ মোতাবেক কেন কাজ করলেন না, এ নিয়ে দোষারোপ করেন। ১৯৪৪ সালে বুলগের যুদ্ধে তাঁর আদেশ মোতাবেক কাজ করতে গিয়েই জার্মানরা হেরে বসে। ফলে জার্মান ও তাদের মিত্রদের হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পড়ে।

৪. রাশিয়ার শীত

রাশিয়া দখলের জন্য হিটলার ছিলেন বদ্ধপরিকর। তিনি তাঁর জেনারেলদের বলেন, ‘আমাদের শুধু রাশিয়ার দরজায় লাথি মারা বাকি, তা হলেই রাশিয়া পচা কাঠের মতো ভেঙে পড়বে। কিন্তু তাদের জয়ের আগে রাশিয়ায় শীতের আগমন ঘটে। কিন্তু হিটলার বাহিনী রাশিয়ার শীতের জন্য প্রস্তুত ছিল না। গরমের পোশাকে রাশিয়ার প্রবল শীতে যুদ্ধ করতে গিয়ে মস্কো দখলে ব্যর্থ হয় জার্মানরা।

৩. গ্রিস আক্রমণ

রাশিয়া আক্রমণের আগে জার্মানরা গ্রিস আক্রমণ করে বসে। এর ফলে রাশিয়া আক্রমণে ছয় সপ্তাহ দেরি হয়ে যায় জার্মানদের। এই দেরির কারণে শরৎকাল শেষ হয়ে রাশিয়ায় শুরু হয়ে যায় শীত। ফলে অপারেশন বারবোসা রাশিয়া ধ্বংস শেষ করার আগেই রাশিয়ার রাস্তায় শীত নেমে আসে, যা বিপাকে ফেলে জার্মান বাহিনীকে।

২. স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ

ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল লড়াই এটি। স্তালিনগ্রাদেরর যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। ককেশাসের তেল ক্ষেত্রের জন্য জার্মানদের সিক্সথ আর্মি পুরো শহর ঘিরে ফেলতে পারত। কিন্তু হিটলার তাদের আদেশ দেন শহরের প্রতি গলি, ঘর এবং আনাচে কানাচে যুদ্ধের জন্য। সিক্সথ আর্মি শহরের ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই সোভিয়েত বাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে। হিটলার তাদের পিছু হটতে বারণ করেন। ফলে তাঁদের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে।

১. দুই ফ্রন্টের যুদ্ধ

হিটলারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাশিয়া কব্জা করা। কিন্তু জার্মানির পশ্চিম সীমান্ত রক্ষায় জার্মানি সিদ্ধান্ত নেয় ফ্রান্স ও ব্রিটেন আক্রমণ করার। ফ্রান্স জয় ছিল এক সপ্তাহের ব্যাপার এবং ব্রিটেনের বিপক্ষে জয় হিটলারকে পশ্চিম সীমান্তে সুরক্ষা দিয়েছিল। এরপর হিটলার যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করে বসেন। ফলে হিটলারকে যুদ্ধ করতে হয় ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। হিটলার প্রতিবারই তাঁর সেনাবাহিনীকে দুটি ফ্রন্টে ভাগ করতেন। নিজের শক্তির পরিমাণ না জেনে আক্রমণ করতে থাকলে যে সব জায়গাতেই জয়ী হওয়া সম্ভব নয়, এটা হিটলার হয়তো বুঝতে চাননি। তাই তাঁকে শেষে হার স্বীকার করে নিতে হয়েছিল।

Advertisement
Advertisement
0.88425993919373