Beta

আলমগীর কুমকুম আমাকে মানুষ বানিয়েছেন : আলমগীর

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:২১

বরেণ্য পরিচালক আলমগীর কুমকুমের ৫ম মৃত্যবার্ষিকী ছিল আজ। এ উপলক্ষে এফডিসিতে আয়োজন করা হয় স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের। এতে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন, শাহিন সুমনসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের কলাকুশলীরা। অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা করেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীর।

অনুষ্ঠানে নায়ক আলমগীর বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা একটি ফটোস্টুডিওতে। আমি ছবি আনতে গিয়েছিলাম, তিনি বসে ছিলেন। আমার ছবি দেখে জানতে চাইলেন, আমি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই কি না। আমি কোনো উত্তর না দিয়েই চলে আসি। তার পর দ্বিতীয়বার দেখা হয় যখন, তিনি বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন আমাদের ওখানে, সেখানে একটি চলচ্চিত্রের অফিস করতে চান। আমি চলচ্চিত্রের অফিস শুনে ভাড়া দিব না বলে দেই। তখন তিনি আমাকে আবারও চলচ্চিত্রে কাজ করতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলি এবং মুক্তিযুদ্ধের ছবির কথা শুনে সবাই রাজি হয়। একদিন তেজগাঁওয়ে উনার অফিসে গিয়ে কথা বললাম। কিছুক্ষণ কথা বলে বের হয়ে যাচ্ছি, তখন শুনতে পারি আমার কাজ করা হবে না। কেন জানতে চাইলে শুনতে পাই, আমার উচ্চারণ ভালো না। পরের সপ্তাহে আমি আবার যাই উচ্চারণ ঠিক করে এবং উনার সঙ্গে কথা বলি। এক সপ্তাহে আমার উচ্চারণ শুনে তিনি হেসে দিয়ে বলেন, এক সপ্তাহের চেষ্টায় যে ভাষা চেঞ্জ করতে পারে সে অবশ্যই চলচ্চিত্রে জন্য উপযুক্ত। এভাবেই আমি উনার হাত ধরে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করি।’

প্রথম শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আলমগীর বলেন, ‘প্রথমে শুটিং করতে যাই মহেড়াতে। সেখানে নায়করাজ একটি রুম পেলেন থাকার জন্য। কবরী ম্যাডাম রুম পেলেন, সবাই সবার মতো জায়গা নিয়ে শুয়ে পড়লেন। আমি আর ক্যামেরাম্যান মাহফুজ কোনো থাকার জায়গা পেলাম না। তখন ম্যানেজার গিয়ে কুমকুম স্যারকে বিষয়টি জানালে আমাদের দুজনকে বারান্দায় খড় বিছিয়ে শুতে দেন। আমরা সেখানেই ঘুমিয়েছিলাম। কবরী ম্যাডাম কুমকুম স্যারের কাছে জানতে চাইলেন কেন আমাদের বারান্দায় শুতে দিলেন! উত্তরে তিনি বলেন, এভাবে কষ্ট করে যদি চলচ্চিত্রে কাজ করতে পারে তা হলে থাকুক, না হয় চলে যাক। যদি থাকতে পারে তবেই চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করতে পারবে। আমি চলচ্চিত্রের জন্য কী করতে পেরেছি জানি না, কিন্তু আমি মানুষ হতে পেরেছি। এখানে কাজ করতে না পারলে হয়তো অন্য কোনো  কাজ করতাম, কিন্তু মানুষ হতে পারতাম কি না; জানি না।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘চলচ্চিত্র তারকারা সবাই কারো না কারো হাত ধরেই চলচ্চিত্র এসেছেন। কিছুদিন পর আর তা কেউ মনে রাখেন না। কিন্তু আলমগীর সাহেব তা মনে রেখেছেন। তিনি আলমগীর কুমকুম পরিচালিত “আমার জন্মভূমি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন বলে উনাকে সব সময়ই মনে রেখেছেন। আরো ছয় মাস আগে থেকে তিনি আমাকে ফোন করে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে কুমকুম সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীতে কিছু একটা করতে হবে। আমি মনে করি এখন যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে এই ভালোবাসাটা কমে গেছে।’    

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, পরিচালক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলমগীর কুমকুম ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি 'পদ্মা নদীর মাঝি'। এরপর তিনি স্মৃতিটুকু থাক, আমার জন্মভূমি,  মমতা, আগুনের আলো, কাপুরুষ, সোনার চেয়ে দামি, রাজবন্দি, ভালোবাসা, রাজার রাজা, কাবিন, শমসের, রকি, মায়ের দোয়া, অমর সঙ্গী, জীবন চাবিসহ অসংখ্য ছবি বানিয়েছেন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement