Beta

ইস্তানবুলের জাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা

১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫৫ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৬

রাইফ ইফতিখার

বাংলাদেশে বর্তমানে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মৌসুম। নিজেদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করছে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য। ভালো শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অর্জনের আশায় শিক্ষার্থীদের নজর এখন দেশের গণ্ডী ছাড়িয়ে বিদেশের উন্নত দেশগুলোতে।

প্রতিবছর তাই বিপুল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমাচ্ছেন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ইউরোপের অন্যতম দেশ তুরস্কে। ইউরোপ এবং এশিয়ার মাঝে অবস্থিত তুরস্কে রয়েছে প্রাচ্য ও পাশ্চ্যত্যের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। তা ছাড়া যারা মুসলিম সংস্কৃতি ও জীবনযাপনে অভ্যস্ত ,তাদের জন্য তুরস্ক হলো অন্যতম একটি দেশ। তুলনামূলক কম টিউশন ফি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান করছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। চাহিদাসম্পন্ন সব বিষয়েই পড়ার সুযোগ আছে তুরস্কে। এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও সুবিধাজনক বসবাসের সুবিধার কারণে তুরস্ক জায়গা করে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার প্রথম দিকে।

তুরস্কের অর্থনৈতিক রাজধানী ইস্তানবুলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে ইস্তানবুল জাইম বিশ্ববিদ্যালয়। ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে প্রায় ৬৫ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা তুরস্কের অন্যতম সংস্থা ‘ইলিম ইয়ায়মা ভাকফি’। ১৮৯২ সালে ওসমানী সাম্রাজ্যের সময়ে প্রতিষ্ঠিত কৃষি কলেজ থেকে সময়ের বিবর্তনে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৮টি অনুষদের অধীনে স্নাতক শ্রেণিতে ৩১টি , স্নাতকোত্তরে ২৫’টি ও সমন্বয়ে ১৫টি ডক্টরেট প্রোগ্রামে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভাগ ভিত্তিক ইংরেজি ও টার্কিশ ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ। ৮০টি দেশ থেকে আসা সহস্রাধিক বিদেশি শিক্ষার্থীসহ আট হাজারের অধিক শিক্ষার্থী বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এছাড়াও রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শতাধিক সুযোগ্য, অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য শিক্ষকমণ্ডলী , সুদক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসন ব্যবস্থা, উন্নত শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি। ইস্তানবুল জাইমে রয়েছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা পরামর্শক, যারা শিক্ষার্থীদের পরামর্শদানের মাধ্যমে শিক্ষাগত উন্নয়নে রাখে।

সুবিশাল ক্যাম্পাস ১০ লাখ বইয়ের ক্ষমতাসম্পন্ন লাইব্রেরি, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, ইস্তানবুল জাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নিজস্ব তিনটি ইনডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম, জিমনেশিয়াম, গলফ কোর্সসহ আন্তর্জাতিক মানের জীবন-যাপনের সব সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ক্যাম্পাসের ভেতরেই ছেলে ও মেয়েদের জন্য উন্নত মানের গেস্টহাউজ ও ডরমিটরি। প্রায় ত্রিশের অধিক স্টুডেন্ট ক্লাবের আওতায় প্রতিবছর বিভিন্নধর্মী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্বমানের ভবিষ্যৎমুখী ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরিতে অবদান রাখায় এবং সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক প্রচেষ্টায় ইস্তানবুল জাইম এরই মধ্যে তুরস্কের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইস্তানবুল জাইমে রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ সুবিধা। ছাত্রছাত্রীদের পূর্বতন মেধা ও যোগ্যতা বিবেচনায় ইস্তানবুল জাইমে ভর্তিতে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির সুবিধা প্রদান করা হয় । এ ছাড়া নিজ শ্রেণিতে মেধা তালিকায় প্রথম তিনের মাঝে থাকলেও রয়েছে বিশেষ বৃত্তির সুবিধা। শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিনা খরচে ইংরেজি, তার্কিশ, স্পেনিশ, রাশিয়ান, আরবি, জার্মানসহ বহু ভাষা শিখার সুযোগ। রয়েছে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুবিধা।

 ইস্তানবুল জাইমে প্রতি বছরে স্প্রিং এবং ফল সেশনে বছরজুড়েই রয়েছে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ। তবে কেউ যদি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান তাঁদে০র জন্য রয়েছে স্প্রিং সেশনে আগেই ভাষাশিক্ষা কোর্সে ভর্তির সুবিধা। তবে কারো ভাষাগত যোগ্যতা থাকলে শুরু করা যাবে মূল শিক্ষা কার্যক্রম। ভর্তির আবেদন করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে। ভর্তি সম্পর্কে সকল ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে রয়েছে ইজু ইন্টারন্যাশনাল নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফেসবুক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মতিপত্র পেলে ঢাকাস্থ তুরস্কের দূতাবাস থেকে করা যাবে ভিসার আবেদন । বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সবদেশের ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement