Beta

যৌন নিপীড়ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিব্রত আছি : জাবি উপাচার্য

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৫৭ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:০১

জাবি সংবাদদাতা
জাবিতে আজ বুধবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সমাবেশে বক্তব্য দেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। ছবি : এনটিভি

যৌন নিপীড়ক শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর অবস্থায় আছি বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। আজ বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়। অথচ অসাবধান মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে গোপনে নিজের শিক্ষিকার, সহপাঠীর বিভিন্ন আপত্তিকর অবস্থার ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছে। তার নিচে এমন নোংরা মন্তব্য করেছে- মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষিকারা আমাকে সেগুলো দেখাতে লজ্জা পাচ্ছিলেন। এই ছাত্রদের স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করা উচিত।’

ধর্ষণের শিকার নারীকে ধর্ষণের জন্য দায়ী না করার আহ্বান জানিয়ে ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণ একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই অপরাধে নিপীড়ককে চিহ্নিত করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ধর্ষণের শিকার নারীকে দায়ী করার মানসিকতা পরিহার করে তাঁর প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে ও তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত নারীর সংগ্রাম আলাদা আলাদা। কিন্তু কোনো নারী নিপীড়িত হলে, ধর্ষিত হলে সব শ্রেণির নারীকেই এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।’

এ সময় উপাচার্য আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে কেবল পুরুষই যৌন নিপীড়ক হয়। নারীও বিভিন্নভাবে একজন পুরুষকে যৌন নিপীড়ন করতে পারে। এ বিষয়েও আমাদের সতর্ক হতে হবে।’

‘যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোল, নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ, রাষ্ট্র গঠন কর’ এই আহ্বানে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০১৭ পালন করছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সমাবেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ভিশন ২০২১-এর দিকে। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে। জেন্ডার (লিঙ্গ) সমতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অর্ধ জনগোষ্ঠী হলো নারীসমাজ। সেই নারীসমাজ যদি নানা ধরনের বৈষম্যে ও সহিংসতার মধ্যে থাকে তাহলে আমরা পুরো জনগোষ্ঠীকে একটি উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাতে পারব না।’

রেখা সাহা আরো বলেন, ‘যেদিন সমাজ ধর্ষিতাকে বয়কট না করে বরং যে ধর্ষণ করেছে তাকেই বয়কট করবে সেদিন পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে চাই। এই সমাজে নারীদের যেমন ভূমিকা আছে পুরুষেরও ঠিক সমান ভূমিকা রয়েছে। আসুন আমরা বৈষম্যহীন, সমতাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

সাভার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানা জাহান সিদ্দিকার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ-পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতার, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেহানা ইউনুস, অ্যাডভোকেট মাকসুদা আখতার প্রমুখ।

গত ২৬ নভেম্বর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের ১২ ছাত্রের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারের সিক্রেট গ্রুপে শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের ছবি আপত্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তোলেন ওই বিভাগের ৩১ জন ছাত্রী। এই ঘটনায় অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

Advertisement
0.7980649471283