Beta

শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

২০ এপ্রিল ২০১৭, ২০:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘অপ্রত্যাশিত রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার পর সরকার এবং কারখানার মালিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং গৃহীত পদক্ষেপের কারণে এ ধরনের আর কোনো  দুর্ঘটনা ঘটেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম আইন সংশোধন করে সময়োপযোগী করা হয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জার্মানির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছয় সদস্য বিশিষ্ট জার্মানির ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রেডরিখ ইবার্ট ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইকেল সোমার।

‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা লাভবান হচ্ছি’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন বাংলাদেশকে এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)-এর আওতায় জিএসপি সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৫৫ ভাগ আসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে। একক দেশ হিসেবে জার্মানি বাংলাদেশে দ্বিতীয় বড় রপ্তানি বাজার।’

তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ‘ইপিজেড এ শ্রমিক ইউনিয়নের আদলে ওয়ার্কার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা সেখানে মালিক পক্ষের সঙ্গে বার্গেনিং করতে পারছে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। শ্রম আইন মেনেই এ অ্যাসোসিয়েশন গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট। শ্রমিকরা কারখানায় নিরাপদে কাজ করছে। ইপিজেড এ শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সরকার বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ‘যারা বিনিয়োগ করেছিল তাদের সঙ্গে অঙ্গীকার ছিল যে এখানে কোনো ট্রেড ইউনিয়ন হবে না। তারপরও আমরা তাদের রাজি করিয়ে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন করেছি। এখন তারা চায় যে এটা যেন ট্রেড ইউনিয়নের মতো হয়। এ বিষয়টি এখন আলোচনার মধ্যে আছে। নিশ্চয়ই আমরা বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। কারণ এমন কিছু করতে যাব না যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সামান্য ব্যহত হয়। সেটা আমরা চাইব না। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা আমরা লাভবান হচ্ছি।’

‘অযোগ্য কারখানা দুই শতাংশের নিচে’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে নিরাপদ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রেতা গোষ্ঠীর অনুরোধে  অ্যাকোর্ড, অ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনিসিয়েটিভ দেশের তিন হাজার আটশত তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে তিন হাজার ৭৮০টি কারখানা পরিদর্শন শেষ করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ৪৭টি কারখানা আংশিক ত্রুটি থাকায় সেগুলো সংস্কার করা হয়েছে। অযোগ্য কারখানার সংখ্যা দুই শতাংশের নিচে। আন্তর্জাতিক ভাবে দুই শতাংশের উপরে গ্রহণ যোগ্য। বাংলাদেশে এখন গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল পৃথিবীর যে ১০ তৈরি পোশাক কারখানাকে ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভারেনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি) সনদ দিয়েছে তার মধ্যে সাতটিই বাংলাদেশের। গ্রিন ফ্যাক্টরি নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ হলেও ক্রেতারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না, বরং মূল্য কমছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আটটি ইপিজেডে প্রায় চার লাখ শ্রমিক কাজ করছে। বাইরের শ্রমিকদের চেয়েও তাঁরা বেশি বেতন ও সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। এখানকার শ্রমিকরা চান নিজেদের মধ্যে শ্রমিক সংগঠন তৈরি করতে। বাইরের কাউকে তাঁরা নিজেদের নেতা নির্বাচন করতে চান না।’

প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল সোমার বলেন, ‘জার্মানি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এবং ভালো বন্ধু। জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে আরো বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ শ্রমিকদের জন্য অনেক কিছু করেছে, তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বাংলাদেশে শ্রমিকরা নিরাপদ। জার্মানি চায় আইএলও নির্ধারিত শ্রম আইন চালু থাকুক।’

এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিন্জ, এফইএস এর এশিয়া এন্ড দি প্যাসিফিকের প্রধান জুর্জেন স্টেটিটেন, বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ ফ্রানজিসকা কর্ন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং ডব্লিউটিও এর মহাপরিচালক মুনির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
0.79795908927917