Beta

গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ শিল্পের জন্য হবে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট : শিল্পমন্ত্রী

১৪ জানুয়ারি ২০১৬, ০৪:৩২ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৬, ০৮:৫১

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে গতকাল ‘আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং মেশিনারিজ প্রদর্শনী-২০১৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ছবি : নিউজ রুম ফটো

গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট ও টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। শিল্পমন্ত্রী বলেন, ইনস্টিটিউটের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান বরাদ্দ দিতে এরই মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিসিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এর অগ্রগতি দেখা যাবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং মেশিনারিজ প্রদর্শনী-২০১৬’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং ভারতের এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিভিশন (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

বাসসের খবরে বলা হয়, বিজিএপিএমইএ প্রেসিডেন্ট রাফেজ আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিভিশন (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল কে ও বিজিএপিএমইএ প্রথম সহসভাপতি শাহাজাদা মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দেশে তৈরি পোশাকশিল্প খাতের সংযোগ হিসেবে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতে আধুনিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পরও বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আয় সম্ভব হবে।

যত্রতত্র কারখানা স্থাপন না করে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশবান্ধব গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প গড়ে তোলার পরামর্শ দেন শিল্পমন্ত্রী। নতুন জাতীয় শিল্পনীতিতে এ শিল্পকে অগ্রাধিকার শিল্প খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা জাতীয় অর্থনীতিতে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের অবদান সম্পর্কে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে মূল্য সংযোজন ও লিড টাইম কমাতে এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ শিল্প খাতে স্থাপিত প্রায় এক হাজার ৪০০ শিল্পকারখানা ৩৫ ধরনের গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন করছে। আমদানির বিকল্প এসব পণ্য ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক সহজেই রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম হচ্ছে। বিজিএপিএমইএর নেতারা জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই শিল্প খাত থেকে ৫ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পকে এসএমই খাতের আওতাভুক্ত করে সরকারের নীতি-সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। তাঁরা রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে এ খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং একে অগ্রাধিকার শিল্প খাত হিসেবে নতুন শিল্পনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বিশ্বের ২২টি দেশের চার শতাধিক স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, প্যাকেজিং, লেবেল, সুয়িং, নিটিং, এমব্রয়ডারি, লন্ড্রি, ফিনিশিং, ডাইং, প্রিন্টিং, কাটিং, স্প্রেডিং যন্ত্রপাতি ও পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।

Advertisement
0.825847864151