Beta

ভালোবাসা দিবসে বাধা, ‘বান্ধবী’র ভাইকে খুন

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:২৮ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩৩

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে আবদুল্লাহর মরদেহ। ছবি : এনটিভি

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ‘বান্ধবী’র ছোট ভাইকে হত্যা করেছেন এক কলেজছাত্র। ছুরিকাঘাত করে জখম করেন ‘বান্ধবী’র মা ও চাচাতো ভাইকেও।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুরের পোড়াদহ ইউনিয়নের বালিয়াশিশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কলেজছাত্র উজ্জ্বল হোসেনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত কলেজছাত্রের নাম আবদুল্লাহ (১৭)। সে বালিয়াশিশা গ্রামের মহাম্মদ আলমের ছেলে। পড়ত কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণিতে। আটক উজ্জ্বল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বিএ পরীক্ষার্থী। নিহত আবদুল্লাহর বড় বোন (২২) ও উজ্জ্বল একই সঙ্গে পড়াশোনা করেন। উজ্জ্বলের বাড়ি ইসলামী বিশ্ববিদ্যায় এলাকার হাতিয়া গ্রামে।

মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুর রহমান আটক উজ্জ্বল ও নিহত আবদুল্লাহর বড় বোনের বরাত দিয়ে জানান, আটক উজ্জ্বল দাবি করেছেন, নিহত আবদুল্লাহর বড় বোনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর আবদুল্লাহর বড় বোন দাবি করেছেন, উজ্জ্বলের সঙ্গে তাঁর শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে, প্রেমের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের দুজনের মেলামেশা মানতে পারেনি আবদুল্লাহর পরিবার। উজ্জ্বলকে বকাঝকা করে আবদুল্লাহ এবং মারধরও করে। গতকাল বুধবার আবদুল্লাহদের বাড়িতে যান উজ্জ্বল। এ সময় আবদুল্লাহ উজ্জ্বলকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়। উজ্জ্বল আবদুল্লাহকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করেন। আবদুল্লাহর মা ছাবিয়া খাতুন (৪৫) ও তাঁর চাচাতো ভাই শাজাহান আলী (৩৫) বাধা দিলে তাঁদেরও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন উজ্জ্বল। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবদুল্লাহর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুর রহমান জানান, আটক উজ্জ্বল স্বীকার করেছেন, প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় তিনি আবদুল্লাহর ভাইকে খুন করেছেন এবং অন্য দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছেন। নিহত আবদুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ আলম বাদী হয়ে উজ্জ্বলকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে আবদুল্লাহর মা বলেছেন, চার বছর আগে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। তিন বছর সংসার করার পরে একটা সন্তান হয়। সন্তান হওয়ার কিছুদিন পরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এর পর থেকে সন্তান নিয়ে মেয়ে তাঁদের বাড়িতেই থাকে। মেয়েও কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু ওর কলেজের সহপাঠী উজ্জ্বল ওকে উত্ত্যক্ত করত। বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাঁর ছেলে আবদুল্লাহকে হত্যা করেছে উজ্জ্বল।

Advertisement
0.90666699409485