Beta

রোহিঙ্গা গণহত্যা তদন্তে কমিশন গঠন

১১ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা তদন্তে নাগরিক কমিশনের প্রধান বিচারপতি শামসুল হুদা। ছবি : এনটিভি

মিয়ানমারে গণহত্যার ঘটনা তদন্তে নাগরিক কমিশন গঠন করেছে বাংলাদেশের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ৩৩ সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিচারপতি শামসুল হুদাকে। 

আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা তদন্তে নাগরিক কমিশন’। 

বিচারপতি, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা বলেন, ‘যদি আমাদেরকে তাদের (রোহিঙ্গা) পুষে রাখতে হয়, তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এর ভেতর থেকে যে কোনো বিস্ফোরণ ঘটবে না এমন কথাও বলা যায় না। বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচানোর জন্য আবার যদি সংগ্রাম করতে হয়, আমার এ বৃদ্ধ বয়সে আমি সে সংগ্রাম করতে প্রস্তুত।’ 

কমিশনের কাজের ব্যাপারে কমিশনের সদস্য সচিব বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক বলেন, ‘বার্মার রোহিঙ্গা গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অন্যান্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন কনভেনশন অনুযায়ী রোহিঙ্গারা কীভাবে বার্মার বৈধ নাগরিক তা প্রমাণ করা।’ 

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘আমরা একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ কমিশন বার্মার সরকার বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ 
  
কমিশনের সদস্য মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘ভারতের মতো দেশ যারা মানবিকতায় বিশ্বাসী তারা এখন মানবিকতার বিরুদ্ধে। চীন সব সময়ে বিরুদ্ধে। সুতরাং আমাদেরকে বিষয়টা মনে রেখে যাতে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে তা যায়, সেটা করতে হবে।’  

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিয়ানমার সরকার নিজ দেশের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে গণহত্যা এবং জোর করে বাস্তুচ্যুত করার যে অমানবিক ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছে, তা তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিকভাবে কমিশন গঠন করা হবে। পরে আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উত্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। 

মিয়ানমারে নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত ও গণহত্যার শিকার হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। 

Advertisement
0.83522701263428