Beta

লিবিয়ায় অপহরণ, নড়িয়ায় লাখ টাকার লেনদেন

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:০১ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:৪৯

লিবিয়ায় অপহরণের শিকার বাংলাদেশিদের মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাংলাবাজারে র‍্যাবের হাতে আটক সুমন ছৈয়াল। ছবি : এনটিভি

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাংলাবাজার থেকে আজ বুধবার সন্ধ্যায় সুমন ছৈয়াল (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-৮। লিবিয়ায় অপহরণের শিকার বাংলাদেশিদের মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয়।

সুমন ছৈয়াল বাংলাবাজারের মুদি দোকানি। আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে তিন হাজার ইউরো (বাংলাদেশি অর্থে প্রায় দুই লাখ ৯৩ হাজার টাকা), বাংলাদেশি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ও ২৭টি মোবাইল উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব ও লিবিয়া প্রবাসীদের স্বজনরা জানায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ইমন আহাম্মেদ (২৭), একই গ্রামের জুয়েল বেপারী (২৫) ও জুয়েল শেখসহ (৩০) মোট ছয়জন লিবিয়ায় ছিলেন। বেশ কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। কয়েকদিন আগে স্বজনদের কাছে লিবিয়া থেকে একটি ফোন আসে যে ওই ছয়জন অপহরণের শিকার হয়েছে। জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে দাবি করে অপহরণকারীরা। তারা জানায়, বাংলাদেশের শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাংলাবাজারের ব্যবসায়ী সুমন ছৈয়ালের কাছে টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। অপহৃতদের বাঁচাতে অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে মুক্তিপণ নিয়ে দরকষাকষি শুরু হয়। একপর্যায়ে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দিতে সম্মত হয় অপহরণের শিকার ইমন, জুয়েল বেপারী ও জুয়েল শেখের পরিবার।

গতকাল মঙ্গলবার সুমন ছৈয়ালের কাছে নয় লাখ টাকা দিয়ে যান ওই তিনজনের স্বজনরা। কিন্তু তাদের মুক্তিপণ না দিয়ে আরো এক লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। আজ বুধবার আরো এক লাখ টাকা নিয়ে সুমনকে দিতে গেলে খবর পায় র‌্যাব। সন্ধ্যায় মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় র‌্যাব সুমনকে আটক করে। পরে অভিযান চালিয়ে সুমনের দোকান থেকে তিন হাজার ইউরো, ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ও ২৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে র‌্যাব। আটক সুমনকে র‌্যাব ৮-এর মাদারীপুর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

লিবিয়ায় অপহরণকারীদের হাতে আটক জুয়েল বেপারীর মামা হাসান শেখ বলেন, ‘আমার ভাগিনা প্রায় দেড় বছর আগে কাজের উদ্দেশে লিবিয়ায় যায়। প্রায় দুই মাস যাবৎ পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। পরে লিবিয়া থেকে এক বাংলাদেশি আমাদের কাছে ফোন দিয়ে বলেন, জুয়েল তাদের কাছে আটক রয়েছে। ছয় লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে একপর্যায়ে তিন লাখ টাকায় মুক্তি দিতে রাজি হয় তারা। নড়িয়া উপজেলার সুমন ছৈয়ালের কাছে টাকা দিতে বলে তারা। ধারদেনা ও জমি জমা বিক্রি করে মঙ্গলবার সুমন ছৈয়ালের কাছে তিনজনের মুক্তির জন্য নয় লাখ টাকা দিয়ে যাই। পরে আরো এক লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। বুধবার সন্ধ্যায় আরো এক লাখ টাকা দিতে গেলে র‌্যাব বিষয়টি জেনে যায়। আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে এই টাকা সুমনের হাতে তুলে দেই।’

মাদারীপুরে র‍্যাব-৮ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি মুক্তিপণের টাকার লেনদেন হচ্ছে। আমরা বিষয়টি রেকি করতে শুরু করি। পরে এসে মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় সুমনকে আটক করি। অভিযান চালিয়ে তাঁর দোকান থেকে তিন হাজার ইউরোসহ বাংলাদেশি টাকা ও ২৭ মোবাইল উদ্ধার করি। সুমনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।’

Advertisement
0.81097483634949