নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা

১৯ জুলাই ২০১৫, ২০:১৬ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৫, ২২:৩৮

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ, নিনিত ও পরিবারের স্বজনরা গাজীপুরের নুহাশপল্লীর সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ছবি : এনটিভি

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে গাজীপুরে নুহাশপল্লীতে তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। urgentPhoto

আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ, নিনিত ও পরিবারের স্বজনরা হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। 

এ সময় শাওনের বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, বোন সেঁজুতি, নাট্য পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী, হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত হিমু সদস্য, নুহাশপল্লীর কর্মী ও দর্শনার্থীরা মোনাজাতে অংশ নেন। 

এরপর বিকেল পৌনে ৩টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের ভাই জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক জাফর ইকবাল, ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ তাঁদের সন্তানরা নুহাশপল্লীতে গিয়ে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারত করেন।

সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত ভক্ত নুহাশপল্লীতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তাঁদের অনেকেই প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুবার্ষিকী তাঁদের একটা পারিবারিক বিষয়। আজ শুধু কবর জিয়ারত করতে তিনি এসেছেন। আজ কোনো কর্মসূচি নেই। 

মেহের আফরোজ শাওন আরো বলেন, ‘আমরা বিশেষ দিনে কেবল নয়, সারা বছর হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করি। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর প্রিয় ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী যেভাবে পালন করতেন, আমিও তাঁর মৃতুবার্ষিকী সেভাবেই পালন করি। আমার দুই ছেলের গল্পে, কর্মকাণ্ডে সব সময় ওদের বাবা উপস্থিত। আমরা যখন কোথাও বসি, তখন অদৃশ্য একজনের জন্য একটি চেয়ার খালি রাখা হয়।’

নুহাশপল্লীতে গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে কয়েকশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নিয়ে মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি ও ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানেও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন বলে জানান শাওন। 

হুমায়ূন আহমেদের ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনের ইচ্ছার বিষয়ে সাংবাদিকদের মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হুমায়ূনের এ স্বপ্নটা আমরাও পোষণ করি, লালন করি। কিন্তু বড় আকারে ওই হাসপাতাল স্থাপনের জন্য যেভাবে প্রস্তুতি দরকার, সেটা আমার একার নেইভ। এ জন্য অনেকগুলো মানুষকে একত্রিত করা দরকার। আমি সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

শুধু সরকার নয়, শিল্প-সাহিত্যে যে বড় বড় মানুষ রয়েছে তাঁদেরও এ জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শাওন।

শাওনের বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে হয়েছে শাওনকে। নিষাদ ও নিনিত এখন স্কুলে যায়। নিষাদ ধানমণ্ডির একটি স্কুলের কেজি ওয়ান ও নিনিদ নার্সারিতে পড়ে। আর্কিটেক্ট শাওন ঢাকার গুলশানের নিকেতনে আর্কিটেক্ট ফার্ম ডটস লিমিটেডে কর্মরত। 

এ ছাড়া শাওন তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠান সিটিজেন গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরে চারটি নাটক ছাড়াও টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন শাওন।

এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু নাসের। তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন স্যারের রাশির সঙ্গে আমার স্ত্রীর রাশির মিল রয়েছে। স্যারের প্রতি আমাদের আলাদা একটা টান রয়েছে। তিনি বৃষ্টিকে খুব ভালোবাসতেন। তাই তাঁর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরাও বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁর কবরের পাশে এসেছি।’ 

একই টানে ঢাকা থেকে নুহাশপল্লীতে মা-ভাই-বোনকে নিয়ে আসেন সিলেট মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী অনিকা আলম। তিনি জানান, ‘আমার শৈশব-কৈশোরের শিক্ষা হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে। তাঁকে স্মরণ করতে ও শ্রদ্ধা জানাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁর কবরে এসেছি।’ 

হিমুদের আয়োজন 
‘হিমু পরিবহনে’ করে রাজধানী শাহবাগ থেকে অর্ধশতাধিক ‘হিমু’ রোববার দুপুরে নুহাশপল্লীতে এসে পৌঁছান। ছেলেদের গায়ে ছিল হলুদ পাঞ্জাবি আর নারীরা নীল শাড়ি পরিধান করেন। সেখানে তাঁরা কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আগতদের মাঝে ক্যানসার সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেন।

নুহাশপল্লীতে যাওয়ার পথে ‘হিমুরা’ স্থানে স্থানে ক্যানসার রোগ সম্বন্ধে সচেতনতাবিষয়ক প্রচারপত্র বিতরণ করেন। নুহাশপল্লীতে তাঁরা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া এদিন সারা দেশেও হিমুদের বৃক্ষরোপণ ও পাঠাগার সেল স্থাপন কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানিয়েছেন ‘হিমু’ মো. আসলাম  হোসেন।

হুমায়ূন আহমেদ নেত্রকোনার কেন্দুয়া গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ২০১১ সালে তাঁর অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পরলে পরের বছরের মাঝামাঝি সময় অস্ত্রোপচার করা হয়। এ রোগেই ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মারা যান।