রাজনীতির বাইরে আমার স্বপ্ন নেই : মুক্তা

২৮ জুলাই ২০১৭, ২১:১৬ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৭, ২১:৫১

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা। ছবি : এনটিভি অনলাইন

অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি আইন পেশায় যুক্ত আছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। পারিবারিকভাবেই রাজনীতির হাতেখড়ি ঘটে মুক্তার। বাবা প্রয়াত আবু জাফর মু. মঈনউদ্দিন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক  সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা। সেই সুবাদে ছাত্রজীবনেই জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক ও পরে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্যপদ লাভ করেন মুক্তা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালে শুরু থেকেই নূরজাহান বেগম মুক্তা প্রসিকিউটর (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

মনোনয়ন এবং রাজনীতির নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এনটিভি অনলাইনের নিজস্ব প্রতিবেদক মুহম্মদ আকবর।

এনটিভি অনলাইন : মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন কেন?

নূরজাহান বেগম মুক্তা : আমি সংরক্ষিত এমপি। আমার এই জায়গা থেকে সাধ্যমতো কাজ করেছি। কিন্তু সরাসরি নির্বাচিত এমপি জনগণের জন্য যা করতে পারেন, তা সংরক্ষিত এমপি পারেন না। কারণ, তিনি জনপ্রতিনিধি নন। এলাকার জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করা যায়। কাজের ক্ষেত্র থাকে অনেক বেশি। অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে। সংরক্ষিত এমপিরাও পারেন তবে তা সীমিত পরিসরে।

এনটিভি অনলাইন : রাজনীতি নিয়ে আপনার স্বপ্ন…

নূরজাহান বেগম : এর আগেই এর উত্তর আমি দিয়েছি। তারপরও বলি, আমার জন্ম একটা রাজনৈতিক পরিবারে। আমার বাবা আবু জাফর মো. মঈনুদ্দিন মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। একজন প্রথিতযশা আইনজীবী ছিলেন। চাঁদপুর জেলার জনগণের নেতা ছিলেন আমার বাবা। রাজনীতির জন্য অনেকবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। সে কারণে তাঁর নানা রোগব্যাধি হয়। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ৪ অক্টোবর তিনি মারা যান। বাবার কারণেই ছোটবেলা থেকেই একটা রাজনৈতিক পরিবেশ আমাদের বাড়িতে দেখেছি। আমি ছাত্ররাজনীতি করেছি। আমি ছাত্রলীগের সুলতান-রহমান যে কমিটি ছিল সেটার কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার ছিলাম। শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ছাত্ররাজনীতি আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলতে পারা প্রথমে বাবা, পরে ছাত্রলীগ থেকে থেকে শিখেছি। আর দৃঢ় মনোভাব জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিখেছি এখনো শিখছি। জননেত্রীর শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জনগণের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করছি। রাজনীতির বাইরে আমার স্বপ্ন নেই। তাই আমার মনে হয়েছে রাজনীতি করে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কিছু করতে হলে সংসদ সদস্য হওয়ার বিকল্প নাই। সে স্বপ্ন থেকেই মনোনয়ন চাইছি। আমি ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম আর এবার তো চাইছিই।

এনটিভি অনলাইন : চাঁদপুর-৫-এর মানুষ কেন আপনাকে কেন ভোট দেবে?

নূরজাহান বেগম : আমি আমার এলাকার মানুষের সঙ্গে সব সময়ই ছিলাম। এখনো আছি। আমি মানুষের জন্য সুযোগ পেলেই কাজ করছি। সে এলাকার মানুষের কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করেছি। সাধ্যমতো মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। সে কারণে সেখানকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমাকে দেখলে তারা আনন্দ পান। আবেগে জড়িয়ে ধরে। তারা বোধহয় আমাকে তাদের বাইরের কেউ মনে করে না। সে কারণেই ভোট দেবে এটা আমার বিশ্বাস।

এনটিভি অনলাইন : এবার অন্য প্রসঙ্গে যেতে চাই। আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নারী অধিকারের জন্য কাজ করেন। তাঁদের অনেকের ভাষ্য, আমাদের নারীদের অগ্রযাত্রার পথ সুন্দর নয়। সমাজ, রাষ্ট্র সেভাবে তৈরি না। সহায়তাও করছে না। এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?

নূরজাহান বেগম : নারীর ক্ষেত্রে সব রকম প্রতিবন্ধকতাই ছিল। একসময় নারীদের অবস্থান ছিল শুধু রান্নাঘরে। আজ নারী রান্নাঘরেও আছে, রাজপথেও আছে, উল্লেখযোগ্য চাকরিতেও নারী আছে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও নারী আছে। এটার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অসামান্য। বলা যায় একক অবদান। সে কারণে তিনি বিশ্বে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশে অন্যান্য দলে নারী আছে। বিএনপির কথাই বলুন না। আমাদের দেশে নারী উন্নয়ন নীতিমালা যখন হয়, তখন তারা হরতাল ডেকেছে। নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা প্রতিবাদ করে। তারপরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের অধিকারের জন্য লড়ছেন। তারপরও নারীর পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এর জন্য পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দায়ী। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। নারীর জন্য হ্যাঁ বলতে হবে।

এনটিভি অনলাইন : নারী রাজনীতিকের অভিজ্ঞতা কেমন?

নূরজাহান বেগম : আজকের দিনে মন্দ না। এখানে আসতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু আরো পরিচ্ছন্ন হওয়া জরুরি। পরিচ্ছন্ন হবে সে বিশ্বাস নিয়েই আছি তবে নারীকে সেভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এনটিভি অনলাইন : আপনাকে ধন্যবাদ এনটিভি অনলাইনকে সময় দেওয়ার জন্য।

নূরজাহান বেগম : ধন্যবাদ আপনাকেও এবং এনটিভি অনলাইন পরিবারকেও।