Beta

‘বেগম’ সম্পাদকের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি রক্ষায় রিট

১৭ জুলাই ২০১৭, ১৭:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম এবং সাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত ‘নাসির উদ্দিন স্মৃতি ভবন’ হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট দায়ের করেন। 

এর আগে এ ব্যাপারে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের জবাব না পেয়ে আজ রিটটি দায়ের করা হয়। 

আইনজীবী ইউনুছ আলী জানিয়েছেন, বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চে আগামীকাল এ রিটের শুনানি হতে পারে। 

রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, সংস্কৃতিসচিব, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বিবাদী করা হয়েছে।

গত ১২ জুলাই বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে  বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভবনটি হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট করা হবে।

নোটিশে  বলা হয়, ‘সওগাত’ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ‘বেগম’ সম্পাদক নূরজাহান বেগম এবং শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই গেণ্ডারিয়ার নারিন্দা এলাকার শরৎগুপ্ত রোডের বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িটির নাম ‘নাসির উদ্দিন স্মৃতি ভবন’।

১৮৯০ সালের দিকে কিশোরগঞ্জের এক হিন্দু জমিদার বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। সেই হিসেবে ১২৭ বছরের এ বাড়িটিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি নূরজাহানের ছোট মেয়ের জামাই বাড়িটি ভেঙে বহুতল ভবন তৈরির চেষ্টা করেন। বিষয়টি উল্লেখ করে বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের মেয়ে ফ্লোরা খান ৬ জুলাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু এতে তারা সাড়া দেয়নি। কিন্তু সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাড়িটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। 

নূরজাহান বেগম বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত। তিনি ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের মেয়ে। তিনি ভারত উপমহাদেশের নারীদের জন্য প্রথম সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকা ‘বেগম’-এর সূচনালগ্ন থেকে সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছয় দশক ধরে তিনি সেটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিয়ে করেন রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইকে।

২০১৬ সালের ৫ মে নূরজাহান বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ২৩ মে মারা যান।

Advertisement
1.0825231075287