Beta

রোহিঙ্গা এলাকায় ভোটার হতে চাচা-ফুফুর আইডিও লাগবে

১৭ জুলাই ২০১৭, ১৬:১১ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৭:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আগত মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী অধ্যুষিত বিশেষ এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার হতে হলে বাবা-মায়ের পাশাপাশি চাচা-ফুফুর জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) লাগবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা করে ইসি সচিব বলেন, রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ার বিষয়ে বিশেষ এলাকা আছে। বিশেষ এলাকায় এর আগে ২০টি উপজেলা ছিল। এবার আরো ১০টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৩০টি এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি রয়েছে।  

বিশেষ এলাকার যে কার্যপরিধি আছে, সেখানেও নির্ধারিত করা আছে কী কী বিষয় কমিটির সদস্যরা দেখবেন উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘কোনো বিদেশি নাগরিক যাতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন সে বিষয়ে তাঁরা পদক্ষেপ নিতে পারেন, চেক দিতে পারেন। কীভাবে চেকটা দেবে আরো নির্দেশনা দেওয়া আছে। তাঁর বাবা-মায়ের আইডি দেখবে, ফুফু-চাচার আইডি দেখবে। এ ছাড়া আরো অন্যান্য পদক্ষেপ আছে সেগুলো পদক্ষেপ নিয়ে কমিটি যদি নিশ্চয়তা প্রদান করে সে ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আগত কোনো লোক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।’    

সচিব আরো বলেন, ২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার যোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর তিন ধাপে ৭২ দিনে রেজিস্ট্রশন সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাদের বয়স ১ জানুয়ারি ২০১৭ বা তার আগে ১৮ বছর পূর্ণ হবে এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া কেউ ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলেও তা করতে পারবেন। তা ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে। 

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের জন্য সাত পর্যায়ে সাত ধরনের কমিটি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভাগীয় কমিটি, জেলা, উপজেলা, বিশেষ এলাকার জন্য আদালা কমিটি, সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য কমিটি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জন্য কমিটি আছে। এবারের ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ৩৫ লাখ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইসি কাজ করবে। 

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদের সময় নাম সংশোধন বা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ১৩ নম্বর ফরম পূরণ করে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা যাবে। তথ্য হালনাগাদে নাম সংশোধনের বিষয়টি রাখা হয়নি। নাম বা অন্য যেকোনো সংশোধনের জন্য যেকোনো দিন নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। আর এটা সারা বছরই করা যাবে।

সারা বছরই যে কেউ নতুন করে তাঁর ভোটার আইডি করতে পারবে, সংশোধনের আবেদন করতে পারবে, সংযোজন-বিয়োজন করতে পারে, কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে যেকোনো সময় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে এসে আবেদন করতে পারবেন বলেও জানান সচিব।

নারী ভোটার বাড়ানোর বিষয়ে সচিব জানান, নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। মহিলাবিষয়কমন্ত্রী এবং সেই মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন যে অধিদপ্তরগুলো আছে, সেই অধিদপ্তরগুলোর বিভাগ, জেলা, উপজেলা লেভেলের কর্মকর্তারা আছেন তাদেরকে আমরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া নারী নেতৃত্বে যারা আছেন বিশেষ করে নারী জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মীদেরকে এই কার্যক্রমের সহযোগিতা আমরা চেয়েছি। 

সভায় সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Advertisement
Advertisement
0.9045729637146