Beta

মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদন

নিকটাত্মীয় ছাড়া অঙ্গদান নয়, লাগবে অনুমতি

১৭ জুলাই ২০১৭, ১৫:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিকটাত্মীয় ছাড়া শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাউকে দেওয়া বা কারো কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। এমন বিধান রেখে ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন, ২০১৭’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আইনের সংশোধীনতে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়া অন্য কারো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদান ও সংযোজনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জাকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্মেলনকক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ খসড়াটি উপস্থাপন করে।

বৈঠক শেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম সাংবাদিকদের বলেন, নিকটাত্মীয় বলতে পিতা-মাতা, ভাইবোন, পুত্র-কন্যা, স্বামী-স্ত্রী, রক্তের সম্পর্কের চাচা-চাচি, মামা-মামি, নাতি-নাতনি, মামাতো, খালাতো, চাচাতো, ভাইবোনকে বোঝানো হয়েছে।

আশরাফ শামীম জানান, খসড়াটি আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে যেসব সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে, সেগুলো বাদে সরকারি-বেসরকারি প্রত্যেক হাসপাতালকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের বিষয়ে অনুমোদন নিতে হবে। 

অতিরিক্ত সচিব আরো জানান, কিডনি, যকৃৎ, টিস্যু, চক্ষু, অন্ত্র, অস্থিমজ্জা ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আদান-প্রদান করা যাবে। নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যাদের ব্রেইন ডেথ হয়েছে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে তাদের বয়স হতে হবে দুই থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। তবে সে ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনদের নিশ্চিত করতে হবে যে এতে তাঁর সম্মতি ছিল। 

এ ছাড়া জীবিতদের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। আর যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেবে তাদের বয়স দুই থেকে ৭০-এর মধ্যে হতে হবে। তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী লোকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। 

আশরাফ শামীম জানান, এই প্রক্রিয়াটি মনিটরিং (পর্যবেক্ষণ) করার জন্য একটি জাতীয় কমিটি থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবেন এই কমিটির চেয়ারম্যান। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হবেন কমিটির সদস্য সচিব।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে যে হাসপাতালে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ করা হবে সেখানে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে নিয়ে সমন্বয় করে এই বোর্ড গঠন করতে হবে। 

আশরাফ শামীম জানান, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কাউকে নিকটাত্মীয় বানিয়ে ব্যবসার চেষ্টা করা হলে তাদের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধ করে কেউ ধরা পড়লে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া অন্যান্য বিধান লঙ্ঘন করলে তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। 

এ ছাড়া কোনো চিকিৎসক এই আইন ভঙ্গ করলে তাঁর চিকিৎসা সনদ বাতিল হবে। আর যদি কোনো হাসপাতাল আইন ভঙ্গ করে তাহলে মালিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁরা উপরোক্ত শাস্তি পাবেন। 

আইনটি কেন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের ফলে একটি আধুনিক আইনের প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে আইনটি করা হচ্ছে। 

Advertisement
0.89144110679626