Beta

মেয়র আনিসুল হককে এলজিআরডি মন্ত্রী

‘আগে রোগী গ্রহণ করেন ভালো করার দায়িত্ব আমার’

১৬ জুলাই ২০১৭, ২২:০৪ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৭, ২২:১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আজ রোববার বক্তব্য দেন এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি : পিআইডি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে একটি আধুনিক ও সুদূর প্রসারী মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।’

আজ রোববার গুলশান সেন্টার পয়েন্টে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তৃতীয় আন্তবিভাগীয় সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ঢাকা ১১-এর সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, দপ্তর ও সংস্থা প্রধান, নগর বিশেষজ্ঞ ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

‘ঢাকার জনসংখ্যা বাস্তবে প্রায় তিন কোটি’

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে গত ৫০ থেকে ৬০ বছরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশি-বিদেশি সংস্থার মতে এ নগরীতে সর্বোচ্চ এক কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তবে জনসংখ্যা প্রায় তিন কোটি। তা ছাড়া সিটির আয়তনও প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব কারণে নগরীর ভৌত কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে বলেই জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’

এলজিআরডিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ সমস্যা নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্বল্প মেয়াদী ব্যবস্থা চালু রেখে দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা মহানগরের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা শহরের এ জলজট বা জলাবদ্ধতার জন্য আমরা সবাই কম-বেশি দায়ী। মহানগরীর অধিবাসী, জনপ্রতিনিধি, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে এ সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর আরেকটি বড় সমস্যা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। ঢাকা ওয়াসার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল না থেকে প্রতিটি বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক বসানো উচিত। সেপটিক ট্যাংকে প্রাকৃতিক উপায়ে মানববর্জ্য সংরক্ষিত থাকে যা অত্যন্ত নিরাপদ।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে বিভিন্ন সংস্থা যে যার মতো করে কাজ করে যাবে এমনটা আর হতে দেওয়া যায় না।’

‘ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম…’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, ‘যারা জনগণের সঙ্গে ডিরেক্ট রেসপনসিবল জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহিতা করতে হয় লিড এজেন্সি তারাই হবে। আপনারা যদি সম্মতি দেন লিড এজেন্সি পৌর করপোরেশনের হওয়া উচিত।’

এ সময় পাশে বসে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মন্ত্রীকে বলেন, ‘রোগী ভালো করার পর বাচ্চা দিয়ে দেন আমাকে। রোগীর ক্যানসার। এটারে দিয়ে লিড এজেন্সি? ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার।’

এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আগে রোগী গ্রহণ করেন ভালো করার দায়িত্ব আমার।’

‘প্রয়োজনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করেন’

অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অতি তাড়াতাড়ি প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করেন। ড্রেজিং করে সেখানে যা অবৈধ স্থাপনা আছে সব ভেঙে দেন। আমার বাড়ি থাকলে আমার বাড়িও ভেঙে দেন।’

পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পর্কে একটা কথা বলতে চাই, তারা কিন্তু এ ব্যাপারে সাংঘাতিকভাবে সমর্থন করে গিয়েছেন। তারাই বলেছেন নদীর ও জলাধারের ব্যাপারে। কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সিএস এবং আরএস সেখানেও যদি থাকে তাহলেও বলেছেন এগুলো খালি করতে হবে।’

‘তাদের আরএস, সিএস নকশা আছে’

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি কাজ করতে গিয়ে দেখেছি পাঁচ থেকে সাত বছর আগে খালের উপর তিন থেকে চারতলা বাড়ি করে ফেলেছে। তাদের আরএস নকশা, সিএস নকশা সব কিছুই আছে। তারা বলে এটা খাল না, এটা আমাদের বাড়ি।’  

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে একমাত্র দেশ একটি রাজধানী যেখানে প্রায় ৫৪টি প্রতিষ্ঠান ঢাকা শহর নিয়ে খেলা করছে। এটা হতে পারে না। উনারা টেবিল পরিবর্তন করেন। যিনি কিছুদিন আগে ড্রিংকিং ওয়াটারের কাগজপত্র সই করেছেন আবার এক সপ্তাহ পরে হয়তো উনি সুয়ারেজে সই করছেন। এখন কোনটা যে কোথায় যাচ্ছে আমি জানি না।’

Advertisement
0.78939914703369