Beta

জিল্লুর রহমানের স্মরণসভায় ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের আহ্বান

২০ মার্চ ২০১৭, ২৩:২০ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৭, ০৩:১৭

আজ সোমবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভৈরবে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ছবি : এনটিভি

ভৈরবকে দেশের ৬৫তম জেলা হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে এলাকাবাসী।  

আজ সোমবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এ আহ্বান জানানো হয়। 

আওয়ামী যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ভূমি কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত ওই স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের শেষ ইচ্ছা বাস্তবায়নে সরকারের আরো তৎপর হওয়া উচিত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই স্বপ্নকে লালন করে গেছেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভৈরব ও কুলিয়ারচরবাসীর মাঝে সেই স্বপ্নের বীজ বুনে গেছেন। তাই তাঁর শেষ ইচ্ছা এবং এই অঞ্চলের মানুষের একান্ত বাসনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন। 

ভৈরব পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহনেয়াজ গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভৈরব পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ। প্রধান বক্তা ছিলেন জিল্লুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. সায়দুল্লাহ মিয়া। 

এ সময় আরো বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মির্জা মো. সুলায়মান, আওয়ামী লীগ নেতা হাজি মো. সিরাজ উদ্দিন, এস এম বাকী বিল্লাহ, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন কাজল, সদস্য সচিব মো. এনামূল হক জাহাঙ্গীর, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মনসুর, প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সাবেক একান্ত সচিব মো. শাখাওয়াত উল্লাহ মোল্লা, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আতিক আহমেদ সৌরভ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব আবদুল হেকিম রায়হান, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অরুণ আল আজাদ প্রমুখ।

স্মরণসভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে ভৈরব বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণসহ মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়সহ মরহুমের নিজ বাসভবন আইভি ভবনে অনুষ্ঠিত হয় কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল।

২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিল্লুর রহমান ১৩ জুলাই ভৈরবের মাটিতে পা রাখেন। সেদিন স্থানীয় হাজী আসমত কলেজ মাঠে দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচনী ওয়াদা হিসেবে ভৈরবকে জেলা করার ঘোষণা দেন। 

ওই বছরের ১২ অক্টোবর সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় ভৈরবকে জেলা করার। সেদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জেলা করার বিষয়টি সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। 

কমিটির সভাপতি করা হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) কমিটির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধি করা হয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন উপসচিবকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। 

কিন্তু ‘অখণ্ড কিশোরগঞ্জ’ নামে একটি মহল এর বিরোধিতায় নামলে জেলার কার্যক্রম থেমে যায়। 

২০১৩ সালের ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান নাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।

Advertisement
Advertisement
0.95219016075134